মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণ বছরের শুরু থেকে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে চীন। জানুয়ারি থেকে দেশটি একের পর এক শুল্ক বাধার মুখে পড়ছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে বছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) চীনের অর্থনীতি ৫ শতাংশের বেশি হারে সম্প্রসারণ হয়েছে বলে এক জরিপে জানা যাচ্ছে। কারণ হিসেবে শক্তিশালী রফতানি আয়কে সামনে আনছেন সংশ্লিষ্টরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি পরিচালিত বিশ্লেষক জরিপের বরাত দিয়ে ফোর্বস মিডলইস্ট জানিয়েছে, গত জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা চীনের বার্ষিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে।
অবশ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন শুল্ক বাধার মুখে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) চীনের প্রবৃদ্ধির এ গতি কমে আসতে পারে।
সম্পত্তি খাতের বিপর্যয়, ভূরাজনৈতিক উত্তজনাসহ একের পর এক কভিড-পরবর্তী চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বিলম্বিত করেছে। তা সত্ত্বেও রফতানিনির্ভর উৎপাদন খাত দেশটির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীন সরকার বাহ্যিক চাপ হ্রাস এবং ভোক্তা ব্যয় বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে।
অবশ্য মার্কিন শুল্কনীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাজার সম্প্রসারণ ও নতুন রফতানি গন্তব্য বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। সাম্প্রতিক আমদানি-রফতানি পরিসংখ্যান থেকে তার একটি চিত্র পাওয়া যায়।
মার্কিন পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন অনুসারে, গত মে মাসে দেশটিতে চীনা রফতানি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কমেছে, যার আকার প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, একই সময়ে দেশটির সামগ্রিক রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য জোট আসিয়ান অঞ্চলে ১৫ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ১২ শতাংশ বেশি পণ্য রফতানির মাধ্যমে সে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে চীন।